পোস্টগুলি

আত্মচেতনা

ছবি
মাষ্টার গিয়াস উদ্দিন, ব্যাচঃ 1978 হাই স্কুল জীবনের কোন্ শ্রেণিতে পড়েছিলাম ঠিক মনে নেই, তবে গল্পটার মূলভাব বেশ মনে আছে। ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ এ কথা ভেবে আমাদের এ সমাজব্যবস্থায় এমন কিছু ছোটবড় মানুষ আছে, যারা পুরো কর্মক্ষম হলেও বাস্তবে তেমন কোন কাজ করতে চায় না। বর্তমানে এ উদ্ভট ও অথর্ব চিন্তা চেতনা বিশেষ করে অধিকাংশ ছাত্র, তরুন এবং যুবসমাজের মধ্যে প্রকট আকার ধারণ করেছে। এমনকি তারা নিজের ব্যবহার্য ও একান্ত প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো পর্যন্ত নিজেরা কর্মের মাধ্যমে শেষ করে না। অনেকে নিজের পরিধানের পোশাক পরিচ্ছদ নিয়ে পুরোপুরি লন্ড্রিওয়ালার উপর নির্ভরশীল। অথচ, কাজ মানে কাজ। এখানে কোন প্রকার দ্বিধাদ্বন্দ্ব, লাজ- লজ্জা থাকার কোন কথা নয়। কিন্তু তারা পারিবারিক খুঁটিনাটি কাজকর্ম থেকেও নিজেকে নিরাপদ দুরত্বে রাখার নানান ছলাকলার আশ্রয় গ্রহণ করে। তারা ভুলে যেতে বসেছে যে, কাজের মাধ্যমে একজন মানুষের শারীরিক ও মানসিক গঠনমূলক চিন্তা চেতনা বৃদ্ধি পায়। সৃষ্টিশীলতার বাস্তব জ্ঞানধ্যান ও প্রেরণা বিকশিত হয়।  যাক, আসল কথায় ফিরে আসি। আলোচ্য এ গল্পটি লিখেছিলেন বাংলা ও বাঙালীর অন্যতম প্রিয় কবি জসিমউদ্দীন। যিনি প...

বন্ধন

ছবি
জান্নাতুল কারিশমা (সিমী), ১০ম শ্রেণি মীরসরাই সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় বাবার সরকারী চাকরি হওয়ায় বাবাকে অনেকবার বদলি হতে হয়। আগে ছিলাম কুমিল্লায়, এখন ঢাকায়। আজকে নতুন বাসায় শিফট হচ্ছি। ঢাকায় আমি আগে অনেকবার এসেছি কিন্তু এবার পারমানেন্টলি এলাম। গাড়ি থেকে নামলাম। দেখি খুব বড় বিল্ডিং। গেট দিয়ে ঢুকতেই একটা বল আমার হাতের কাছে এসে পড়ল। বলটা মাটি থেকে তুলে নিয়ে এটিু সামনে এগুতেই দেখি একটি পাঁচ বা ছয় বছরের মেয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি তার নাম জিজ্ঞাসা করলাম কিন্তু সে আমার হাত খেকে বলটা নিয়ে দৌড়ে তার বাসায় ঢুকে পড়ল। এর মধ্যে মা আমাকে ডাকছে। মার ডাকে আমি বাসায় ঢুকে পড়লাম। এরপর মার সাথে ঘর ঠিক করার কাজে লাগালাম।  এরপর নতুন ভার্সিটিতে ভর্তি আর নতুন জায়গায় এডজাস্ট করতে করতে সে মেয়েটির কথা খেয়ালই নেই। এখাবে প্রায় এক সপ্তাহ চলে গেল। একদিন ভার্সিটি থেকে বাসায় ফিরে দেখি আম্মুর সাথে একজন প্রতিবেশি দেখা করতে এসেছেন। তাকে সালাম দিয়ে ড্রয়িং রুমে ঢুকতেই দেখি সে বাচ্চাটা নির্দ্বিধায় আমাদের ড্রয়িং রুমে বসে মটু-পাতলু দেখছে। আমি তার পাশে গিয়ে বসলাম। তারপর তাকে তার নাম জিজ্ঞাসা করলাম। সে বলল তার ন...

ভ্রমণ কাহিনী

ছবি
নাহিয়ান জান্নাত, ৬ষ্ঠ শ্রেণি মীরসরাই সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় আমি নাহিয়ান জান্নাত। ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। গত ডিসেম্বরে আমি কক্সবাজার যাই পরিবারের সাথে। সেখানে আমি পরিবারের সাথে আনন্দময় সময় কাটাই। সেখানে আমরা এক সপ্তাহ ছিলাম। প্রথম ও দ্বিতীয় দিন আমরা পুরো কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত এর দৃশ্য উপভোগ করি। তৃতীয়দিন আমরা কক্সবাজার থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে হিমছড়ির সৌন্দর্য ও হিমছড়ি ঝর্ণার অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করি। ৪র্থ দিন আমরা মহেশখালির ঘুরতে যাই এবং ৫ম দিন আমরা জাহাজে করে স্বপরিবারে সেন্টমার্টিন দ্বীপের উদ্দেশ্যে রওনা দেই। জাহাজে বসে সমুদ্রের দৃশ্য দেখতে দেখতে আমি ভাবছিলাম, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত ও সেন্টমার্টিন দ্বীপের দৃশ্য দেখতে দেশ বিদেশের মানুষ কেন এত আগ্রহী? আসলে এ’দুটি স্থান প্রকৃতির লীলাভূমি; এখানে আসলে মানুষ তার দুঃখ কষ্ট সব ভুলে যায়। তারপরদিন আমরা আবার কক্সবাজার ফিরে আসি। কক্সবাজারে সূর্যাস্ত দেখে আমরা মুগ্ধ হই। রাতে সবাই মিলে সেন্টমার্টিনে কাটানো মনোরম সময়গুলো স্মরণ করে গল্পে মেতে উঠি।  বাবা ও মায়ের কাছ থেকে আমি জানতে  পারি যে, সেন্টমার্টিন দ্বীপকে নারিকেল জিঞ্জিরাও বলা হয় এবং...

অমর একুশে (আঁকিবুঁকি)

ছবি
আফরিন জেরিন জিমলী, ৬ষ্ঠ শ্রেণি মীরসরাই সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়

জাতির জনক

ছবি
মোঃ ফারহান তানভীন শুভ, নবম শ্রেণি মীরসরাই সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় জন্ম তাঁর ১৯২০ সালে শ্রেষ্ঠ বাঙালি তিনি সর্বকালে। মানুষের জন্য উজাড় ছিল তাঁর মন মানুষের সেবা তিনি করেছেন সারাজীবন। শীতকালে এক বুড়ি কাঁপছিল থরো থরো নিজ চাদর দিয়ে তিনি বললেন, এই নাও তুমি পরো। স্বাধীনতার যুদ্ধে যিনি করেছেন সংগ্রাম  তিনি আমাদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। স্বাধীনতার ঘোষণায় যিনি সাহস যুগিয়েছেন মানুষের মনে সারাজীবন তিনি বেঁচে থাকবেন মানুষের প্রাণে। মৃত্যুকে তিনি পাননি কখনো ভয় তিনি বাংলাদেশের মানুষের মন করেছেন জয়।  তিনি জানতেন মৃত্যু হবে একদিন না একদিন মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচতে পারবেনা কেউ কোনদিন। ৭৫' সালে নেমে এলো এক ভয়াল শোক তাঁকে স্বপরিবারে হত্যা করল কিছু বিশ্বাসঘাতক। এই শোক ভুলবেনা কেউ কোনদিন, বাঙালিরা বেঁচে থাকবে যতদিন।। 

আমার টিয়া পাখি

ছবি
রামিছা ফারিয়া চৌধুরী, শ্রেণিঃ ৮ম মীরসরাই সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় আমার নাম রামিছা। আমার একটি টিয়া পাখি আছে। এটি আমার জন্মদিনে আমার মামা উপহার হিসেবে দিয়েছেন। আমি আমার মামার দেওয়া সেই উপহারটি দেখে খুব খুশি হয়েছিলাম। আমি পাখিটির নাম রাখি মিঠু। আমার অবসর সময় কাটাই মিঠুর সাথে। আমি যখন যা করি, সেটি মিঠু আমার মতো করার চেষ্টা করে। আমার কোন কিছু হারালে সে খুঁজে দেওয়ার চেষ্টা করে। আমি যখন  ভাত খাই, তখন সেও ভাত খেতে বসে। আমি যখন পানি খেতে বসি, সেও  পানি খায়। আমি যখন গোসল করার জন্য প্রস্তুতি নিই, তখন মিঠু তার কাছে রাখা পানিতে গা ভেজাতে শুরু করে।  মিঠু যেদিন প্রথমবারের মতো আমার নাম ধরে ডেকে আমাকে ঘুম থেকে তোলে, আমরা সবাই রীতিমতো অবাক হয়ে যাই। তারপর থেকে আমি ওকে কথা শিখাতে ‍শুরু করি। সে এখন মোটামুটি সব কথা বলতে পারে। আমি স্কুলে যাওয়ার সময় সে আমাকে আল্লাহ হাফেজ বলে বিদায় জানায়। আমাদের বাড়িতে কেউ এলে মিঠু কুটুম, কুটুম বলে ডাকতে থাকে। মিঠুকে আমাদের পরিবারের একজন সদস্য বললেই চলে। মিঠু এখন আমার সবচেয়ে ভাল বন্ধু। 

"প্রিয়তমা"

ছবি
মাষ্টার গিয়াস উদ্দিন ব্যাচঃ 1978 বীনা--- চিঠির জবাব পাইনি বলে- রাগতো আমি করিনি কভু শুধু নিজের কথাটা বোঝাতে পারিনি তোমায়। হ্যাঁ- একজন প্রেমিকা আছে বটে আমার কিন্তু সে তো অন্যদশের মতো রক্ত মাংসের নারী নয় কোন অনেক পরে আজ ভাঙলো তব ভুল বলতে পারো এও কী সম্ভব? পরিচয় জানো? শোনে রাখো তবে নাম তার ‘মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা’। তাকেই আমি প্রাণাধিক ভালোবেসেছিলাম আমার প্রেমানুভূতির কাছে হার মেনেছে সম্রাট শাহজাহানের প্রেমিকা মমতাজ আর- যমুনার তীরে দাঁড়িয়ে থাকা বিশ্বখ্যাত মহাবিস্ময় সেই তাজমহল। সুদৃঢ প্রতিজ্ঞায় বলেছিলো সে নতুন দেশে- নতুন সমাজে- নতুন রাষ্ট্রীয় জীবনাচরণে অবারিত সুরের মূর্ছনায় শোনাবে সে নব জীবনের মহাজয়গান। যেখানে নেই দুর্বিসহ নির্মম যন্ত্রনা যেখানে নেই অন্যায়-অবিচার-শোষন-বঞ্চনা যেখানে নেই জাতপাত-ধর্ম-বর্ণ-ভেদাভেদ যেখানে নেই অমানবিক রীতিনীতির মরণফাঁদ  যেখানে নেই আত্মবিলাসী ঘৃণিত স্বার্থপরতা। ইতিহাসে তার আগমন ছিলো তেজোদীপ্ত দুরন্ত দুর্বার। বিশ্ব কাঁপিয়ে রক্তাক্ত নিশান হাতে পদ্মা- মেঘনা- সুরমা- আর যমুনার স্বচ্ছ তরঙ্গমালা করেছে লালে লাল। কিন্তু তার...